এই গলিটা ভালো নয় (ছোট গল্প)- নজরুল ইসলাম

তারিখ:

পোস্ট শেয়ার করুন:

এই গলিটা ভালো নয়

নজরুল ইসলাম

বিকাল গড়িয়ে গিয়েছে। লাল রঙা সূর্যটা গড়িয়ে গড়িয়ে পশ্চিমে ডুবতে বসেছে। নিজের ছায়াটাও ছোট হয়ে এসেছে। শহরতলীর প্রধান সড়ক থেকে বামে যে পাকা রাস্তাটা নেমে গিয়েছে সেটা ধরে বেশ অনেকক্ষণ চলার পর একটা নিরিবিলি জায়গা আছে। জন বসতি একেবারে কমও না। তবে বাড়িঘর হিসাবে লোকজন একেবারে কম দেখা যাচ্ছে আজকে। বলতে গেলে সম্পূর্ণ রাস্তা ফাঁকা পড়ে আছে। অনেকক্ষণ পরে একজন দুইজন’কে দেখা যাচ্ছে।

ধানের মৌসুম শেষ হয়ে গেলে কাজ কাম তেমন থাকে না গ্রামে, তখন শহরতলীতে এসে পড়ে আফজাল। একটা ভ্যান আছে তার। সেটা নিয়ে আসে সাথে। তার বাবা বলতো, “বইয়া থাকবি না আফজাল, বইয়া খাইলে গতরে ঘুণে ধরে।” তাই ধানের মৌসুম শেষ হয়ে গেলে গতরে ঘুণ যাতে না ধরে সেটাই খেয়াল রাখে আফজাল। যে কয়মাস গতর খাটা যায় না সেই কয়মাস শহতলীতেই থাকে। শহরের পাইকারি কাঁচা বাজার থেকে কম দামে শাক সবজি কিনে ভ্যানে করে এলাকায় এলাকায় গিয়ে বিক্রি করে। উপার্জন একেবারে খারাপ হয় না। নিজের তো থাকা খাওয়া চলেই সাথে বাড়িতেও কিছু দেওয়া যায়। ছয় দিন শাক সবজি বিক্রি করে বৃহস্পতিবার বাড়ি চলে যায়। শুক্রবার থেকে শনিবার ভোরে এসে কাঁচা বাজার কিনে বিক্রি করতে বেরিয়ে পড়ে।

তার বাড়ির উঠোনের লতা পাতা আছে। মাচায় আছে লাউ কুমড়া। বর্গা চাষ করে অল্প কিছু ধান পায় সে। হিসাব করে চললে মাস কয়েক চলে। নতুন ধানের মৌসুম শুরু হলে আবার তো গোলায় ধান উঠেই। তাই খুব একটা কষ্ট কয় না তার। তেল,নুন,পেয়াজ,রসুন আর মাছ কিনতে হয় বাজার থেকে। সবমিলিয়ে বউ, দুই ছেলে,এক মেয়ে নিয়ে দিন তার ভালোই চলে যায়। শহরতলীর উপার্জন তার আলগা উপার্জন। কিছুটা সঞ্চয় করার চেষ্টা করছে সে। মেয়ের বিয়ে টিয়ে দিতে হবে। তাছাড়া নিজের এক খণ্ড জমি স্বপ্ন তো আছেই। আর কতকাল মানুষের জমিতে চাষ করবে? আর কতকাল মজুর খাটবে। নিজের একখণ্ড জমির স্বপ্ন তার বহু দিনের।

বৃহস্পতিবার বলে আজকে মনটা একটু অন্যমনস্ক। তাড়াতাড়ি বিক্রি শেষ করে বাড়ির পথ ধরতে হবে। ভ্যান গাড়িটা টেনে নিয়ে একটা গলির মুখে এলো আফজাল। কিছুটা অবাক হলো সে। এই রাস্তা দিয়ে প্রায় প্রতিবছরই বেচা বিক্রি করে যায়। এই গলির মুখ সব সময়ই বন্ধ দেখে এসেছে। কিন্তু আজকে দেখা যাচ্ছে গলির মুখ খোলা। যে টিন দিয়ে গলির মুখ বন্ধ করা ছিল সেটা কোথাও দেখা যাচ্ছে না। কৌতূহল বসত গলির ভিতরে উঁকি দিল। লোকজনের আনাগোনা দেখা যাচ্ছে। এক দল ছেলে গোল হয়ে দাঁড়িয়ে আড্ডা দিচ্ছে। মহিলার দল গোল দাঁড়িয়ে হেলে দুলে কথা বলে যাচ্ছে। একজন আরেকজনের গায়ে ঢলে পড়ছে। ছাদে কিছু ছেলেকে ঘুড়ি উড়াতে দেখা যাচ্ছে। গলির একদম শেষ মাথায় একটা চায়ের দোকানও দেখা যাচ্ছে,। দোকানের কেতলি থেকে ধোঁয়া উড়ছে। কয়েকজন মুরুব্বি গোছের লোকজন চায়ে চুমুক দিচ্ছে। আশ্চর্য! এই গলিতে মানুষ থাকে! তাহলে এতদিন বন্ধ করে রেখেছিল কেন? নাকি গলির অন্য মাথায় আরেকটা রাস্তা আছে? যেটা দিয়ে এই গলির মানুষজন যাতায়ত করে।

একবার নিজের ভ্যানের দিকে তাকালো। শাক সবজি,পেঁয়াজ,রসুন ইত্যাদি নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র দিয়ে ভরা ছিল সকালে। এখন প্রায় সব কিছুই শেষ হয়ে এসেছে। অল্প কিছু বাকি আছে। হিসাব করে দেখল মানুষজন কম নেই গলিতে। যা আছে বিক্রি হয়ে যাবে আশা করা যায়। ভ্যান গাড়িটা নিয়ে গলিতে ঢুকে পড়ল আফজাল। খেয়াল করল না গলির ঠিক মুখেই একটা দেয়াল লিখন আছে, সেখানে লেখা “এই গলিটা ভালো না” । আফজাল ভ্যান গাড়ি ঠেলে গলিতে ঢুকতেই সবাই মনে হলো একবার তার দিকে তাকাল, তারপরে যেন কিছুই হয়নি এমন করে যে যার যার কাজ করে যেতে লাগল। গলির মুখের আড্ডাবাজ ছেলেগুলোর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তারা ফিরেও তাকাল না। একটু সামনে এগুতেই দেখা গেল চায়ের দোকান থেকে একজন বয়স্ক মত লোক এই দিকেই আসছে। আফজালকে পাশ কাটানোর সময় একবার আফজালের দিকে আরেকবার তার ভ্যানের দিকে তাকিয়ে শীতল কণ্ঠে বলল, ”তাড়াতাড়ি মাল বেইচ্চা ভাগো মিয়া। সন্ধ্যা হইয়া আইতাছে। গলির গেইট বন্ধ কইরা দিবো।” বলেই হন হন করে হাঁটা দিলেন তিনি। বৃদ্ধকে বিড়বিড় করে বলতে শুনল আফজাল,”কইত্ত থেকে যে আহে এইগুলান……” মনটা খারাপ হয়ে গেল আফজালের। এইরকম লোকজনের সামনে প্রায়ই পড়তে হয় তাকে। এদের সংখ্যাটা কম। তবে একেবারেই কম না। এরকম ছোট ছোট গলিতে ঢুকলে প্রায়ই এরকম খবিস চরিত্রের লোকজনের সামনে পড়তে হয়। সেও ছেড়ে কথা বলে না। সে তো চুরি চামারি করছে না। দুটো করে টরে খাচ্ছে। এরা এমনভাবে আচরণ করে যেনবা গলি তাদের সম্পত্তি আর আফজালের মত লোকেরা সেগুলোতে বিনা অনুমতিতে ঢুকে মহা পাপ করছে।

আফজাল কায়দা করে ভ্যানটা মহিলা যারা গোল হয়ে কথা বলছিল তাদের সামনে নিয়ে রাখলো। আফজাল খুব ভালো করেই জানে, ভ্যান গাড়ি থেকে মহিলারাই কেনাকাটা বেশি করে। ভ্যানের নিচে ঝুলিয়ে রাখা বালতি থেকে পানি নিয়ে তার সবজিতে ছিটিয়ে দিল। তারপর হাক দিল, “এইইই…… তরকারি……তরকারি….. তরকারি……”। তার ডাক শুনে কয়েকজন মহিলা এগিয়ে এলো।

একজন মহিলা তার তরকারি উল্টিয়ে পাল্টিয়ে দেখতে লাগল। “লইয়া যান খালা। আর অল্প কয়ডাই আছে। বেইচ্চা যাই গা।”

মহিলা বেগুন টিপেটুপে দেখল। তারপর বলল, “তোমার তরকারি তো ভালো না।”

“কন কি খালা! মাল বেচা শেষ কিন্তু যা আছে সব ফেরেশ। এই বেগুন পোড়াইয়া ভর্তা করলে বুঝবেন টেস্ট কেমন। নিয়া যান, যদি খারাপ হয় আবার আইলে টাকা ফেরত নিয়েন।”

অতঃপর চটপট এক কেজি বেগুন বিক্রি করে ফেলল আফজাল। প্রথম মহিলাকে কিছু একটা কিনতে দেখে এগিয়ে এলো আরও বেশ কয়েকজন। চটপট বেচাবিক্রি আরও কিছু।

শেষ জালি কুমড়াটা কিনে হাসিমুখেই একজন বলল, “কতদিন জালি কুমড়া দিয়ে ডাল রান্না করি না। আজকে একটু ভালো খাওয়া হবে।”

মধ্য বয়স্ক একজন লোক পাশের বাসা থেকে বেরিয়ে এসে বলল, “পেঁয়াজ আছে পেঁয়াজ?” কিন্তু উত্তর দেওয়ার আগে পেঁয়াজ দেখতে পেয়ে নিজেই বলল, “আহা। বাঁচাইলা মিয়া। পেঁয়াজ নাই বাসায় অনেকদিন। দাও দাও তিন-চার কেজি পেঁয়াজ দাও।”

এভাবেই আধাঘন্টায় বাকি তরি-তরকারি আর আলু, পেঁয়াজ বিক্রি হয়ে গেল। শেষ পর্যন্ত ভিড় যখন কোমল দেখা গেল কেজি দুয়েক আলু, পেঁয়াজ। অল্প কিছু শসা আর তরকারি রয়ে গেল। ইতোমধ্যে সন্ধ্যা হয়ে এসেছে। আশা করছে আর কিছুক্ষণের মধ্যেই সব বিক্রি হয়ে যাবে। ভ্যানটা গ্যারেজে রেখে নিশ্চিন্তে বাড়িতে যাওয়ার বাস ধরতে পারবে। বিকালে দেখা হওয়া সেই বয়স্ক লোকটি আবার তাকে অতিক্রম করে যাচ্ছিল। তাকে ভ্যান নিয়ে বসে থাকতে দেখে বলল,”তুমি এখনো যাও নাই!” তারপরে চায়ের দোকানের দিকে যেতে যেতে লোকটাকে বলতে শুনল, “পাগল ছাগল দিয়া দুনিয়া ভরা।” লোকটাকে মনে মনে গাল দিল আফজাল। “মরুক গিয়া বুইড়া।”

সন্ধ্যা হয়ে যেতেই আশপাশের বাড়ি ঘরের লাইট জ্বলে উঠল। সেই আলোতে গলির রাস্তা কিছুটা আলোকিত হলেও অন্ধকার রয়েই গিয়েছে। “গলিতে তো একটা লাইট দেয়া যায় নাকি?” নিজ মনেই বলল আফজাল। আরও কিচ্ছুক্ষন অপেক্ষা করে যখন বুঝল আর বেচাকেনা হবে না তখন ফিরতি পথ ধরল। অন্ধকারেই গলির মুখের দিকে হাঁটা ধরল আফজাল। আলো না থাকায় যদিও একটু কষ্ট হচ্ছে কিন্তু গলির মুখ তো সমানেই তাই কিছুটা সমস্যা হলেও গা করছে না। গলিটার গেইট পার হয়ে যখন রাস্তায় পড়ল নিকষ অন্ধকার চেপে বসেছে। কিচ্ছু দেখা যাচ্ছে না। দুরের কয়েকটি বাড়ি ঘরের আলো ছাড়া আর কোন আলো নেই। কিছুটা অবাক হলো আফজাল । কি ব্যাপার! সব কিছু এত অন্ধাকার কেন? আশপাশে যে কয়টা বাড়ি আছে সেগুলোর একটাতেও আলো জ্বলছে না। আকাশের চাঁদেরও দেখা নেই। নিজের মোবাইলটা বের করে টর্চ জ্বালিয়ে সমানে চলতে লাগল। আলো জ্বলা বাড়িঘরগুলো সামনে আসতেই মোবাইল চালান করে দিল পকেটে। সমানেই একটা চায়ের দোকান আছে। জনা কয়েক লোকজন বসে বসে চা পুরি খাচ্ছে। দোকানটার সামনে দিয়ে যেতেই সেই বয়স্ক লোকটাকে দেখা গেল। একমনে চায়ে চুমুক দিচ্ছে। এই লোক এখানে এলো কখন? আরেকটু সামনে এগোতেই ভ্রূ কুঁচকে গেল আফজালের। বাড়িঘরগুলো পরিচিত মনে হচ্ছে। আরে, এটা কি একটু আগের গলিটা না? কিন্তু সে গলিতেই আবার ফিরে এলো কেমন করে? তাহলে সে যা ভেবেছে সেটা নিশ্চয় ঠিক। এই গলিতে যাতায়ত করার আরেকটা রাস্তা আছে। অন্ধকারে পথ ভুলে সে সেই রাস্তা দিয়ে আবার গলিতেই ফিরে এসেছে। গলিটার গেইট পার হয়ে রাস্তায় বেরিয়ে এলো আফজাল। এবার ভালো করে পথ দেখে নিয়ে এগোতে লাগল। কিছুক্ষণ নিজেকে আবার সেই একই গলিতে আবিষ্কার করলো। এভাবে বেশ কয়েকবার যাওয়া আসা করার পরেও গলিতেই নিজেকে খুজেপ এতে লাগল আফজাল। পথ ভুল করছে ভেবে উল্টো পথেও গিয়েহে সে। কিন্তু কোন লাভ হয়নি। সে পথেই যাক নিজেকে গলিতেই আবিষ্কার করছে সে প্রতিবার। বিকালের সেই লোকটাকে দেখা গেল তার দিকেই এগিয়ে আসছে। তার সামনে দাঁড়িয়ে বলল, “কি পথ হারাইয়া ফেলস? বলছিলাম না সন্ধ্যার আগেই চলে যেতে। সন্ধ্যায় গেট বন্ধ হয়ে যায়।”

এই অবস্থায় অন্তত কিছুটা পরিচিত কেউকে দেখতে পেয়ে আফজালের মনে আশা জাগল। “চাচা, ভুল হইছে আমার। কোন রাস্তা দিয়ে বাইর হমু বলে দেন না একটু।” কাতর কণ্ঠে বলল সে।

“আর কোন পথ নাই……এটাই তোমার পথ।” বলেই লোকটি হুট করে চলে গেল।

একা দাঁড়িয়ে রইল আফজাল ভ্যান নিয়ে। ভ্যানে মুখ ব্যাদান করে আছে কিছু আলু পেঁয়াজ, আর শাক সবজি।

***

নাইট গার্ড কোরবান আলি একটু পর পর লাইট জ্বালিয়ে ইতিউতি দেখছে আর হাতের লাঠি দিয়ে ঠুকঠাক করে যাচ্ছে। বাঁশিতে ফুল দিয়ে বারবার বলছে, “হুশিয়ার। সাবধান।”

লাইট’টা হঠাৎ গলির মুখে পড়াতে আঁতকে উঠল কোরবান আলি। গলির মুখ খোলা। কিভাবে কিভাবে যেন বন্ধ মুখ খুলে গিয়েছে। গুজব আছে এই গলিতে কেউ যদি ঢুকে সন্ধ্যার আগে বের না হলে আর কোনদিন বের হতে পারে না। অনেকেই নাকি এই গলিতে হারিয়ে গিয়েছে। বেশ কয়েক বছর আগে দেশে করোনা ভাইরাসে এক রোগের উৎপত্তি হয়। এই রোগে শধু স্পর্শের মাধ্যমেই অন্যের দেখে ছড়িয়ে যেত। এই গলিতে বেশ কয়েকজন মানুষের করোনা ভাইরাস ধরা পড়ার পরে গলির মুখ লকডাউন করে দেওয়া হয়। ভয়ে কেউ গলির মুখের কাছেও যেত না। মানুষের ভয় শেষ পর্যন্ত এমনভাবে জেঁকে বসে যে শেষ পর্যন্ত দেয়াল তুলে গলির মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এমনকি তরি তরকারি বিক্রি করে যারা তাদেরও ঢুকতে দেওয়া হয়নি। দেয়ালের মুখের কাছে এসে মানুষগুলো কত আহাজারি করেছে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের জন্য, কিন্তু স্বার্থপর এলাকাবাসী স্পর্শের ভয়ে তাদের কাছে পর্যন্ত ঘেষেনি। এভাবে কিছুদিন চলার পর দেয়ালের ওপাশ থেকে আর কোন আওয়াজ এলো না। ততদিনে পুলিশের কাছে এই নির্মম তথ্য পৌঁছে গিয়েছিল। প্রশাসন এসে দেয়াল ভেঙে ভিতরে ঢুকলেও মানুষজনের সাড়া শব্দ পেল না। পেল না কোন লাশও। পুরো গলি যেন ভুতের আখড়ায় পরনিত হয়ে গিয়েছিল। এরপর একদিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলো। স্বাভাবিক নিয়মেই মানুষ সব ভুলে গেল। কিন্তু হঠাৎ করে এলাকা থেকে মানুষজন হারিয়ে যেতে লাগল খোঁজ নিয়ে জানা গেল যারা গলিতে ঢুকে কিন্তু সন্ধ্যার আগে গলি থেকে ফিরে আসে না তাদের আর কখনোই গলি থেকে বের হতে দেখা যায় না। এরপর পরই গলির মুখ বন্ধ করে দেয়া হয়। সাথে গলির একদম মুখে সতর্কবার্তা দেয়ালে লিখে দেওয়া হয়। কিন্তু এরপর থেকেই মাঝে মাঝে কে বা কারা যেন দেয়ালের বন্ধ মুখ দেয়। আর প্রতিবারই কেউ না কেউ ঠিকই নিয়তির অমোঘ টানে গলির মধ্যে গিয়ে সিধায়। যাদের আর কখনোই ফিরে আসতে দেখা যায় না।

গলির মুখ আটকে দেওয়া দেয়ালটা ভেঙে গিয়েছে। ইটের ভাঙ্গা টুকরোর কোন দেখা নেই আশপাশে। টিনের একটা টুকরো পড়ে থাকতে দেখে তা দিয়েই কোনমতে গলির মুখ আটকে দিল কোরবান আলি। বাকিটা লোকজন সকালে এসে দেখবে। তারপরে নিজের ডিউটিতে চলে গেল কোরবান আলি। পিছনে পড়ে রইলো গলিটা এবং যার মুখ টিন দিয়া আটকে দেওয়া। আর তাতে লাল কালিতে দেখা, “এই গলিটা ভালো না”। 

গল্পসল্প ছোটগল্প 

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

spot_img

সম্পর্কিত নিবন্ধ

জুতা (ছোট গল্প)- আফিন্দী

জুতাবিদ্যুৎ’এর গলার তেজে ফাঁকা মেসরুম গমগম করে উঠলো, “ভাই, তুমি যাবে পাঁচ ভাইয়ে? খিদেয় আমার জান যায়! খালা...

মৃত্যু পরবর্তী জগতের অভিজ্ঞতা 

মৃত্যু পরবর্তী জগতের অভিজ্ঞতা  মৃত্যু পরবর্তী জীবনের অভিজ্ঞতা কেমন? মানুষ তার অনিশ্চিত জীবনে শুধু একটি বিষয়ের নিশ্চয়তা নিয়ে জন্মেছে।...

বুক রিভিউ- হুমায়ূন আহমেদের ‘মেঘ বলেছে যাব যাব’

বুক রিভিউ- হুমায়ূন আহমেদের 'মেঘ বলেছে যাব যাব' বুক রিভিউ- হুমায়ূন আহমেদের 'মেঘ বলেছে যাব যাব'।বইয়ের নাম:মেঘ বলেছে যাব...

ডা. স্যাটান: সিরিয়াল কিলার ডা. মার্সেল পেটিওটের ভয়ংকর গল্প!

তাকে আখ্যা দেয়া হয়েছিল ডা. স্যাটান বলে। তিনি একই সাথে একজন সৈনিক, ডাক্তার, মেয়র, ভয়ঙ্কর অপরাধী এবং সিরিয়াল...