ফ্যান্টাসি জনরা পরিচিতি ৩

তারিখ:

পোস্ট শেয়ার করুন:

ফ্যান্টাসি জনরা পরিচিতি ৩ – লিখেছেন- আশরাফুল সুমন 

সাবজনরা: এপিক ফ্যান্টাসি

ফ্যান্টাসি জনরা নিয়ে এবারের আলোচনায় থাকছে এপিক ফ্যান্টাসি। সেকেন্ডারি ওয়ার্ল্ড ফ্যান্টাসি গল্পে বিশাল এক ভূখণ্ড বা পুরো পৃথিবীর দখল, অথবা পৃথিবীর অস্তিত্ব রক্ষা নিয়ে লড়াই হয়, তাকে এপিক ফ্যান্টাসি বলে।

এপিক ফ্যান্টাসি তার সংঘাতের তীব্রতার কারণেই এপিক বলে গণ্য হয়। এই ধরনের গল্পকে আমরা গুড ভার্সাস ইভল স্টোরি বলি। যদিও আধুনিক ফ্যান্টাসি এই ফ্রেইজকে মুছে দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।

এখানে কোনো ডার্ক লর্ড বা অপশক্তি থাকে যে চায় কোনো একটা বিশাল সাম্রাজ্য বা ম্যাপ দখল করতে, অথবা পুরো পৃথিবীতে নিজের শাসন কায়েম করতে। আর নাহলে পুরো পৃথিবী ধ্বংস করে দিতে। সংঘাত এবং হানাহানির তীব্রতাই এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

এপিক ফ্যান্টাসিতে প্রটাগনিস্টকে সাধারণত কোনো অভিযানে যেতে হয়। এই অভিযান বা কোয়েস্ট হতে পারে কোনো রহস্যময় কিছু উদ্ধার করার জন্য, বা কোনো শক্তিশালী অস্ত্র খুঁজে পাওয়ার জন্য, যেটা দিয়ে ডার্ক লর্ডের মোকাবেলা করা যাবে। অথবা এই অভিযান হতে পারে কোনো কিছু ধ্বংসের উদ্দেশ্যে কোথাও নিয়ে যাওয়া নিয়ে, যেটা ধ্বংস করতে পারলে অপশক্তির বিনাশ হবে। আর এই অভিযানগুলোর কারণেই এপিক ফ্যান্টাসির ব্যাপ্তি অনেক বিশাল হয়, রোমাঞ্চ সৃষ্টির মাধ্যমে প্রাণের সঞ্চার হয়। আবার এই ধরনের গল্পে বিভিন্ন চরিত্রের অনেকগুলো সাবপ্লটও থাকে, যেগুলো গল্পের বিস্তৃতি বাড়ানোর পাশাপাশি চরিত্রগুলো সম্পর্কে, জগত সম্পর্কে আরো গভীর ও বিস্তারিত ধারণা দেয়।

আমার কাছে এপিক ফ্যান্টাসি পুরো একটা দেহের মতো যেখানে কোয়েস্টগুলো হচ্ছে ধমনি এবং শিরা, আর সাবপ্লটগুলো হচ্ছে রক্ত, যেগুলো পুরো দেহে ছুটোছুটি করে দেহকে প্রাণবন্ত রাখে।

এপিক ফ্যান্টাসি এবং মহারণ:

অনেকে মনে করে, কোনো সিরিজিকে এপিক ফ্যান্টাসি হতে হলে সিরিজের প্রতিটা বইতেই মহারণ থাকতে হবে। এটা ভুল। এ গেম অব থ্রোনস বইতে কোনো এপিক ধাঁচের যুদ্ধ ছিলো? বইতে টিরিয়নের পিওভি থেকে যে রণ দেখানো হয়েছে, তা কি মহারণ নাকি সাধারণ যুদ্ধ? হুইস্পারিং উডের যুদ্ধ তো ভালো করে দেখায়ইনি। ওটা বর্ণিত হয়েছে ক্যাটলিন স্টার্কের পিওভি থেকে, যে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে অনেক দূরে শৈলশিরার উপর নিরাপদে সন্তানের জন্য অপেক্ষারত ছিলো। মাত্র এক পৃষ্ঠায় বর্ণনা দিলো ক্যাটলিন কী কী দেখছে আর কী কী শুনছে তার। তবে কি সিরিজটা এপিক ফ্যান্টাসি না? হাফ এ কিংস-এ তো পুরো সেনাবাহিনী নিয়ে করা কোনো যুদ্ধই নেই। তবে কি এই বই বা সিরিজ এপিক ফ্যান্টাসি না?

এপিক মানেই সিরিজের প্রতিটা বইতে যুদ্ধবিগ্রহ নয়, এপিক মানে এক মহাযজ্ঞের ওয়াদা, যে ওয়াদা আপনি সিরিজের শেষ বইতে গিয়েও রাখতে পারেন।

প্রাইমারি ওয়ার্ল্ডে লেখা বই কি এপিক হতে পারে?

এই প্রশ্নের উত্তর আমি সরাসরি কোথাও পাইনি। কোরা, রেডিট, ইউটিউব আর প্রচুর ব্লগ ঘেঁটেও কাউকে এ নিয়ে সরাসরি কিছু বলতে শুনিনি। তারপরেও, যেসব বইকে এপিক ট্যাগ দেয়া হয়, সেগুলোর উপর ভিত্তি করে এবং বিভিন্ন ব্লগ, ইউটিউব আর ওয়েব সাইটের আলোচনা বিশ্লেষণ করে বলতে পারি, এপিক ফ্যান্টাসি আসলে টোলকিনের দ্বারা নির্ধারিত। এর সীমানা হয়তো প্রতিনিয়ত বাড়ছে, তবে মূল সারকথা ঐ একই থাকছে। একটা সেকেন্ডারি ওয়ার্ল্ড বা কল্পজগত তাতে থাকতে হয়, নইলে সেটাকে এপিক বলা হয় না।

আমি জানি আপনি এই পর্যায়ে কী বলবেন। একই প্রশ্ন আমার মাথাতেও এসেছে তো! পার্সি জ্যাকসন, হ্যারি পটার, দ্য হিরোস অব অলিম্পাস, দ্য ট্রায়ালস অব এপোলো ইত্যাদির কাহিনি তো পুরোই এপিক ধাঁচের, তবে কেন তাদের এপিক বলা যাবে না? এর উত্তর উপরে যা বলেছি তাই। যারাই এপিক নিয়ে আলোচনা করে, তারাই টোলকিনের গঠনটাকে মেনে নিয়েই এরপর বাকি যা বলার বলে। হ্যারি পটার কিংবা পার্সি জ্যাকসন আসলে প্রাইমারি ওয়ার্ল্ড বা বাস্তব জগতে লেখা এপিক ফ্যান্টাসি ধাঁচের গল্পই, কিন্তু টেকনিক্যাল কিছু ইস্যু থাকার কারণে সরাসরি এপিক ফ্যান্টাসি ট্যাগ দেয়া যায় না। অবশ্য, এসব ট্যাগে গল্পের মূল্য নির্ধারণ হয় না, কেবল কোন শ্রেণিতে পড়ে তা জানা যায়। হ্যারি পটার বা পার্সি জ্যাকসন এপিক ফ্যান্টাসি না হলেই বা কী যায় আসে? তাতে করে কি বিশ্ব ফ্যান্টাসি সাহিত্যে এদের গুরুত্ব কোনো অংশে কমে আসে?

হাই আর এপিক কি একই সাবজনরা?

হাই ফ্যান্টাসি এবং এপিক ফ্যান্টাসিকে অনেকে একই সাবজনরা ভেবে বসেন। এরা একজন আরেকজনের উপাদান ব্যবহার করার কারণেই এটা মনে হয়। তবে এরা কিন্তু মোটেও একই জনরা নয়। আমরা এখন এই দুই সাবজনরার ভেতর পার্থক্য করবো।

পার্থক্য ১: হাই ফ্যান্টাসি গল্পের সেটিংসের দিকে মনোযোগ বেশি দেয়, কিন্তু এপিক ফ্যান্টাসির মনোযোগ সংঘাতের দিকেই বেশি থাকে।

পার্থক্য ২: হাই ফ্যান্টাসি সাধারণত হিরোস জার্নি জাতীয় হয়, বা একজন চরিত্রের উত্থান বা পতন কীভাবে হলো সেটা নিয়েই কাহিনি আবর্তিত হয়। এখানে মূল ফোকাস থাকে প্রটাগনিস্ট এবং তার সাথে ঘটে যাওয়া কাহিনি। বাইরের পৃথিবীর কী হলো না হলো তা হাই ফ্যান্টাসির আলোচ্য বিষয় না। অন্যদিকে, এপিক ফ্যান্টাসি শুধু প্রটাগনিস্ট এবং তার জীবন নিয়ে আলোচনা করে না, অনেকগুলো চরিত্র, তাদের জীবন, তাদের সংঘাত এবং পুরো পৃথিবীতে ওদের সংঘাতের প্রভাব কী তার উপর ফোকাস করে।

পার্থক্য ৩: হাই ফ্যান্টাসিতে চরিত্রসংখ্যা অনেক কম থাকে, যেখানে এপিক ফ্যান্টাসি অনেক বেশিসংখ্যক চরিত্র নিয়ে কাজ করে। হাই ফ্যান্টাসির পিওভি চরিত্র হয় সাধারণত একজন (হিরো), বাকিরা পিওভি পেলেও খুবই কম পায়। এপিক ফ্যান্টাসিতে প্রটাগনিস্ট ছাড়াও আরো অনেক চরিত্রই পিওভি চ্যাপ্টার পায়।

পার্থক্য ৪: হাই ফ্যান্টাসি ওয়ার্ল্ড বিল্ডিং এবং সেটিংসের দিকে বেশি মনোযোগ দেয়। অর্থাৎ, বিশুদ্ধ হাই ফ্যান্টাসির গতি কম হয়। আর এপিক ফ্যান্টাসি সংঘাত এবং কাহিনির দিকে বেশি মনোযোগ দেয়। অর্থাৎ, এপিক ফ্যান্টাসির গতি বেশি হয়। তবে আধুনিক এপিক ফ্যান্টাসিগুলো কিন্তু ওয়ার্ল্ড বিল্ডিং আর সেটিংসের দিকে প্রচুর মনোযোগ দেয়, ফলে মাঝেমধ্যে গতি স্লথ হয়ে যেতে পারে।

পার্থক্য ৫: এপিক ফ্যান্টাসিকে বলা হয় গুড ভার্সাস ইভল স্টোরি। এর কারণ হচ্ছে, এর চরিত্রগুলো সাধারণত ভালো এবং খারাপ, এই দুইভাগে বিভক্ত থাকে। কিন্তু হাই ফ্যান্টাসির চরিত্রগুলো ভালো এবং খারাপ যেমন হয়, তেমনি ভালো খারাপের মাঝামাঝিও হয়। এই ধরনের চরিত্রগুলোকে বলা হয় গ্রে ক্যারেক্টার, অথবা মোরালি এম্বিগিউয়াস ক্যারেক্টার। এদের নৈতিকতা প্রশ্নবিদ্ধ বলেই এদের এমন নামকরণ করা হয়েছে। হাই ফ্যান্টাসিতে গ্রে ক্যারেক্টার বেশি। তবে এখানেও বলে রাখি, আধুনিক এপিক ফ্যান্টাসি এখন আর আগের মতো গুড ভার্সাস ইভল না, গ্রে ভার্সাস ইভল কিংবা গ্রে ভার্সাস গ্রে।

পার্থক্য ৬: হাই ফ্যান্টাসিতে দেখানো সমস্যা অথবা পরিস্থিতি সব সময় ভালো কিংবা মন্দ হয় না। এমন কিছু সমস্যা বা পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে, যেটা নিয়ে আপনি ধন্দেই পড়ে যাবেন যে এখানে কোনটা ভালো আর কোনটা খারাপ। এপিক ফ্যান্টাসিতে সেই সমস্যা নেই। এখানে ভালো আর খারাপের ভেতর সুস্পষ্ট দাগ অঙ্কিত থাকে। তবে আধুনিক ফ্যান্টাসি এখানেও ব্যতিক্রম।

বুঝতেই পারছেন এই দুই জনরার ভেতর পার্থক্যটা এতই সংকীর্ণ যে এদেরকে একই জনরা বলে ভুল হতে পারে। এদিকে বর্তমান এপিক ফ্যান্টাসি হাই ফ্যান্টাসির উপাদান এতই ব্যবহার করে যে দিনশেষে পার্থক্যটা এসে ঠেকেছে কেবল এক জায়গায়; এদের সংজ্ঞায়। উভয়েই সেকেন্ডারি ওয়ার্ল্ডের গল্প, শুধু পার্থক্য হচ্ছে হাই ফ্যান্টাসি পুরো পৃথিবী বা কোনো বিশাল অঞ্চলের দখল, পরিণতি এসব নিয়ে ভাবে না, অপরজন ভাবে।

বর্তমানে প্রচুর ফ্যান্টাসি আছে যেগুলো একই সাথে হাই এবং এপিক। সাবজনরা মিক্সিংয়ের কারণে এখন বিশুদ্ধ হাই ফ্যান্টাসি খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। বেশিরভাগ হাই ফ্যান্টাসিই এখন একই সাথে এপিক। আর যে এপিক, সে হয় হাই নইলে সেকেন্ডারি ওয়ার্ল্ডে লেখা লো ফ্যান্টাসি। বিশুদ্ধ হাই ফ্যান্টাসির একটা উদাহরণ এই মুহূর্তে মাথায় আসছে। দ্য কিংকিলার ক্রোনিকলস সিরিজের প্রথম দুটি বই; দ্য নেম অব দ্য উইন্ড এবং দ্য ওয়াইজ ম্যানস ফিয়ার

এপিক ফ্যান্টাসির বৈশিষ্ট্য:

ম্যাজিক: এপিক ফ্যান্টাসির জগতে জাদুর ব্যবহার অনেক বিস্তৃত হতে পারে। এখানকার ডার্ক লর্ড বা প্রধান ভিলেন খুবই শক্তিশালী জাদুক্ষমতার অধিকারী হয়। তাকে পরাজিত করার জন্যে এবং পৃথিবীকে রক্ষা করার জন্যে প্রটাগনিস্টদেরকেও অনেক ম্যাজিক প্রয়োগ করতে দেখা যায়।

আবার, এপিক ফ্যান্টাসিতে যদি একই সাথে লো ফ্যান্টাসিও হয়, তবে আবার জাদুনির্ভরশীলতা কমে আসে। বর্তমানে এই ধারার লো-এপিক ফ্যান্টাসিগুলো বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

প্লট: জটিল প্রকৃতির এবং খুবই বিস্তৃত হয়ে থাকে। বেশ কিছু সাবপ্লট থাকতে পারে।

চরিত্র: এপিক ফ্যান্টাসিতে অনেক বেশি চরিত্র থাকে। মাঝে মাঝে এত বেশি থাকে যে মনে রাখাই কষ্ট হয়ে পড়ে। এই ধরনের সাহিত্যে চরিত্রায়ন খুব শক্তিশালী না হলেও চলে। কারণ এপিক ফ্যান্টাসির প্রধান মনোযোগ চরিত্রায়নের দিকে থাকে না; সংঘাত, যুদ্ধবিগ্রহ এবং প্রধান কাহিনির পরিণতির দিকে থাকে। যদিও বর্তমান এপিক ফ্যান্টাসিগুলোতে চরিত্রায়ন অনেক গভীর হয়।

সেটিংস: কাহিনি সেকেন্ডারি ওয়ার্ল্ড বা কল্পজগতে সংঘটিত হয়। সাধারণত মধ্যযুগীয় পরিবেশ থাকে, তবে ফিউচারিস্টিক সেটিংস, পোস্ট-অ্যাপোক্যালিপ্টিক সেটিংস বা অন্য ধরনের সেটিংসেও হতে পারে।

সংঘাত: এপিক ফ্যান্টাসি মানেই প্রচুর মারামারি, যুদ্ধ এবং রক্তপাত

এপিক ফ্যান্টাসির উদাহরণ:

1/ A song of ice and fire

2/ Mistborn

3/ The Wheel of time

4/ The lord of the rings

5/ The sword of shannara

6/ The stormlight archive

7/ The first law

8/ Malazan book of the fallen

9/ The broken empire

10/ The shattered sea

11/ The witcher

দেশীয় এপিক ফ্যান্টাসির উদাহরণ দিতে গেলে মিরিয়া: যোদ্ধাকুমারীর খোঁজে আর যুদ্ধের সহস্র বছর পর-এর কথা বলতে হয়। আমার তিনটা বই আছে যা এই সাবজনরার অন্তর্ভুক্ত: ড্রাগোমির, কুয়াশিয়া আর অন্তিম শিখা। এই জনরায় অত বেশি লেখা না হওয়ায় আর বলার মতো তেমন উদাহরণ খুঁজে পাইনি। আশার ব্যাপার হচ্ছে, নতুন লেখকরা (এবং কিছু পুরাতন লেখক) এই জনরায় আগ্রহী হচ্ছেন। হয়তো সামনে আমরা আরো কিছু চমৎকার চমৎকার এপিক ফ্যান্টাসি পাবো।

আগের পর্ব

উইকিপিডিয়া 

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

spot_img

সম্পর্কিত নিবন্ধ

জুতা (ছোট গল্প)- আফিন্দী

জুতাবিদ্যুৎ’এর গলার তেজে ফাঁকা মেসরুম গমগম করে উঠলো, “ভাই, তুমি যাবে পাঁচ ভাইয়ে? খিদেয় আমার জান যায়! খালা...

মৃত্যু পরবর্তী জগতের অভিজ্ঞতা 

মৃত্যু পরবর্তী জগতের অভিজ্ঞতা  মৃত্যু পরবর্তী জীবনের অভিজ্ঞতা কেমন? মানুষ তার অনিশ্চিত জীবনে শুধু একটি বিষয়ের নিশ্চয়তা নিয়ে জন্মেছে।...

বুক রিভিউ- হুমায়ূন আহমেদের ‘মেঘ বলেছে যাব যাব’

বুক রিভিউ- হুমায়ূন আহমেদের 'মেঘ বলেছে যাব যাব' বুক রিভিউ- হুমায়ূন আহমেদের 'মেঘ বলেছে যাব যাব'।বইয়ের নাম:মেঘ বলেছে যাব...

ডা. স্যাটান: সিরিয়াল কিলার ডা. মার্সেল পেটিওটের ভয়ংকর গল্প!

তাকে আখ্যা দেয়া হয়েছিল ডা. স্যাটান বলে। তিনি একই সাথে একজন সৈনিক, ডাক্তার, মেয়র, ভয়ঙ্কর অপরাধী এবং সিরিয়াল...